ঈদের রঙিন খুশি চারপাশে ছড়িয়ে পড়েছে, কিন্তু কাজের ব্যস্ততা বা সময়ের অভাবে এখনো অনেকেই ঠিক মতো শপিং সেরে উঠতে পারেননি। কারো পোশাক বাকি, কারো ম্যাচিং এক্সেসরিজ এখনো কেনা হয়নি, কেউ আবার পরিবারের সবার জন্য কিছু না কিছু নিতে চান একেবারে শেষ মুহূর্তে। কিন্তু চিন্তার কিছু নেই—শেষ সময়েও কিছু টিপস মেনে শপিং করলে স্টাইল ও প্রয়োজন দুটোই সামলানো যায় সহজে। চলুন জেনে নিই, এই শেষ সময়ে কীভাবে ঝটপট, স্মার্ট ও মনমতো ঈদ শপিং সেরে নেওয়া যায়।
সময় বাঁচাতে পরিকল্পনা আগে
শেষ মুহূর্তের শপিং মানেই সময়ের টানাটানি আর দোকান থেকে দোকানে দৌড়ানো। তাই শপিংয়ে যাওয়ার আগে একটু পরিকল্পনা করলেই অনেক সময় আর ঝামেলা বাঁচে। প্রথমে একটা ছোট লিস্ট করে ফেলুন—কার জন্য কী কী কিনতে হবে, কোনটা সবচেয়ে জরুরি, কোনটা আগে কিনলে ভালো হয়।
যেমন – নিজের জন্য একটা কামিজ (Kameez) বা টিউনিক (Tunic) কিনবেন? সেটার সঙ্গে মিলিয়ে ওড়না (Dupatta) বা অ্যাক্সেসরিজ (Accessories) লাগবে কি না, সেটাও আগে ভাবুন। বাচ্চাদের জামা-প্যান্ট, স্বামীর পাঞ্জাবি (Panjabi) কিংবা মায়ের শাড়ির (Saree) রঙ কেমন হবে—এসব আগে ঠিক করে রাখলে দোকানে গিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সময় লাগে না।
আরেকটা জরুরি টিপস – বাজেটটাও ঠিক করে ফেলুন। কতটুকু খরচ করতে চান, সেটা মাথায় রাখলে অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা কমে যাবে। ছোট্ট এই পরিকল্পনা আপনাকে শুধু সময়ই বাঁচাবে না, বরং শপিংটাও হবে আরও মজার এবং দ্রুত।
লাস্ট মিনিট শপিংয়ে কী কী কেনা জরুরি
সময় যখন কম, তখন শুধু দরকারি জিনিসগুলোর দিকেই নজর দেওয়া সবচেয়ে ভালো। তাই লাস্ট মিনিট শপিংয়ের তালিকায় এমন কিছু জিনিস রাখুন, যেগুলো আসলেই ঈদের দিনে আপনার সাজ-পোশাক বা প্রয়োজনের জন্য জরুরি।
১. ফাইনাল লুকের পোশাক:
আপনার ঈদের মূল ড্রেস যদি এখনও না কেনা হয়, তাহলে সেটাই আগে খুঁজে বের করুন। একদম রেডি-টু-ওয়্যার কোনো স্টাইলিশ পোশাক বেছে নিন, যাতে বাড়তি ফিটিং বা কাজ করানোর ঝামেলা না থাকে।
২. ম্যাচিং অ্যাক্সেসরিজ:
ড্রেস ঠিক থাকলেও অনেক সময় আমরা ছোট ছোট জিনিস ভুলে যাই—ম্যাচিং ওড়না, ব্যাগ (Bag), জুতো (Footwear), বা গহনা। এগুলো শেষ মুহূর্তে খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়, তাই আগেই লিস্ট দেখে কিনে ফেলুন।
৩. ছোট উপহার বা গিফট আইটেম:
অনেকে ঈদে ছোট খাটো উপহার দেন আত্মীয়-স্বজনকে। যদি এখনো কিছু কেনা না হয়, তাহলে সাজানো ইয়ার রিং (Earring), চুড়ি (Bengals), ফটো ফ্রেম, চকলেট বক্স, পারফিউম বা সুন্দর প্যাকেজিংয়ের ছোট গিফট আইটেম সহজে কিনে নেওয়া যায়।
৪. বাচ্চাদের পোশাক ও অ্যাক্সেসরিজ:
বাচ্চাদের জন্য নতুন জামা-কাপড় থাকা মানেই ঈদের আনন্দ দ্বিগুণ। পাশাপাশি তাদের চুলের ক্লিপ, বেল্ট, জুতা এসব ছোট খুঁটিনাটিও খুব জরুরি।
৫. শেষ সময়ের সৌন্দর্যচর্চার পণ্য:
নিজেকে ঈদের দিন আরও পরিপাটি করে তুলতে চাইলে ফেসপ্যাক, নেইলপলিশ, হেয়ার অ্যাক্সেসরিজ বা মেকআপের টুকটাক জিনিসগুলোও দেখে নিতে ভুলবেন না।
সব মিলিয়ে—শেষ সময়ের শপিং মানেই দরকারি জিনিসগুলো ঝটপট গুছিয়ে নেওয়া। সময় না থাকলেও একটু বুঝে কিনলে ঈদের সাজে কোনো কিছুই বাদ যাবে না!
পরিবারের সবার জন্য একসাথে শপিং টিপস
ঈদ মানেই শুধু নিজের জন্য শপিং নয়—পরিবারের সবার জন্য কেনাকাটা করাও এই উৎসবের বড় একটা অংশ। তবে একসাথে সবার জন্য শপিং করতে গেলে একটু বুদ্ধি খাটাতে হয়, না হলে সময়, টাকা আর এনার্জি—সব কিছুতেই চাপ পড়ে। তাই এখানে রইল কিছু সহজ টিপস, যেগুলো আপনাকে সাহায্য করবে একসাথে স্মার্ট শপিং করতে।
১. সবার চাহিদা আগে জানুন:
শপিংয়ে বের হওয়ার আগে পরিবারের প্রত্যেকের প্রয়োজন ও পছন্দ শুনে নিন। কে কোন রঙ পছন্দ করে, কার কী লাগবে—সেগুলো লিখে রাখলে দোকানে গিয়ে ভাবতে হয় না।
২. এক জায়গায় বেশি আইটেম থাকলে সেখান থেকেই নিন:
যেখানে পাঞ্জাবি, শাড়ি, কুর্তি (Kurti), বাচ্চাদের জামা (Kids Dress) এবং অ্যাক্সেসরিজ সব একসাথে পাওয়া যায়—সেই ধরনের স্টোর বা ব্র্যান্ডে শপিং করলে সময় বাঁচে, আলাদা আলাদা দৌড়াদৌড়ি করতে হয় না।
৩. কম্বো বা ফ্যামিলি সেট বেছে নিন:
অনেক ব্র্যান্ড এখন ফ্যামিলি-ম্যাচিং পোশাক (Family Matching Dress) দিচ্ছে—যেখানে মা, বাবা আর বাচ্চাদের জন্য মিলিয়ে সাজানো সেট থাকে। এগুলো দেখতে যেমন সুন্দর, তেমন একসাথে কিনলে ঝামেলাও কম হয়।
৪. বাচ্চাদের শপিং আগে সেরে ফেলুন:
বাচ্চারা বেশি সময় ধরে দোকানে থাকতে চায় না। তাই তাদের পোশাক ও অ্যাক্সেসরিজ আগে কিনে রাখলে পরে আপনার নিজের শপিংয়ে মনোযোগ দেওয়া সহজ হয়।
৫. ছাড় ও অফার খেয়াল করুন:
একসাথে অনেক কিছু কিনলে অনেক সময় স্পেশাল ডিসকাউন্ট বা অফার মেলে। চোখ রাখুন এমন অফারে—এতে বাজেটের মধ্যেই সবার জন্য ভালো কিছু নেওয়া সম্ভব হয়।
একসাথে সবার শপিং মানেই একসাথে ঈদের আনন্দ আরও বাড়িয়ে তোলা। একটু পরিকল্পনা আর স্মার্ট পছন্দই এখানে সবচেয়ে বড় সাহায্য করবে।
অনলাইন না অফলাইন – কোনটা হবে সহজ সমাধান?
শেষ মুহূর্তের শপিংয়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয় – অনলাইন করবো, না অফলাইনে দোকানে গিয়ে কিনবো? দুটোই ভালো, তবে সময়, প্রয়োজন আর সুবিধা অনুযায়ী বেছে নিলেই সবচেয়ে ভালো ফল পাওয়া যায়।
অনলাইন শপিং – সময় বাঁচায় আর ঝামেলা কমায়:
যাদের সময় একেবারে কম, অফিস শেষে বের হওয়া সম্ভব না, অথবা গরমে বাইরে বের হতে ইচ্ছা করে না—তাদের জন্য অনলাইন শপিং হতে পারে সেরা সমাধান। ঘরে বসেই ব্রাউজ করুন, পছন্দ করুন, অর্ডার করুন। লা রিভ (Le Reve) এখন অফলাইনের মত অনলাইনেও দিচ্ছে পোশাক ট্রায়াল করে দেখে নেওয়ার সুযোগ, বাংলাদেশে এই প্রথম কোন ফ্যাশন ব্রান্ড এই ভার্চুয়াল ট্রায়াল রুম নিয়ে এসেছে। তার পাশাপাশি এক্সপ্রেস ডেলিভারি দিচ্ছে—২-৩ দিনের মধ্যেই পণ্য পৌঁছে যাচ্ছে। তাছাড়া অনলাইনেই আপনি সহজে সব সাইজ, কালার আর অ্যাক্সেসরিজ ম্যাচ করে দেখতে পারেন। তবে, ঈদের আগে সময়মতো ডেলিভারি পেতে অর্ডার কনফার্ম করার শেষ সময় জেনে নিন, যাতে শপিংয়ের আনন্দে কোনো ব্যাঘাত না ঘটে!
অফলাইন শপিং – চোখে দেখে পছন্দ করার সুবিধা:
আবার অনেকেই পোশাক না দেখে, না ছুঁয়ে কিনতে স্বস্তি পান না। বিশেষ করে যারা ফ্যাব্রিক ও ফিটিং নিয়ে খুঁতখুঁতে, তারা অফলাইনে শপিং করলেই ভালো।
কীভাবে সিদ্ধান্ত নেবেন?
যদি আপনার পছন্দের ব্র্যান্ড অনলাইনে ভালো সার্ভিস দেয় এবং আপনি জানেন কী কিনতে চান—তাহলে অনলাইনেই ঝটপট সেরে নিতে পারেন। আর যদি কনফিউশনে থাকেন, নতুন কিছু ট্রাই করতে চান বা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে একসাথে কিনতে চান—তাহলে অফলাইনে যাওয়াটাই বেটার।
শেষ কথা, যেটা আপনার সময়, প্রয়োজন আর স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে যায়—সেটাই হবে সহজ সমাধান!
শেষ সময়ে শপিং করলেও ঈদের সাজ যেন পূর্ণ হয়
শেষ সময়ে শপিং বললেই অনেকেই ভাবেন, ঈদের সাজ হয়তো ঠিকমতো হবে না। কিন্তু সাজ কখনো শুধু দামী জিনিস বা ঝকমকে পোশাকে আটকে থাকে না—বরং আত্মবিশ্বাস আর নিজের মতো করে প্রস্তুত হওয়াটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
একটা ভালোভাবে পরিপাটি হয়ে সাজা পোশাক, হালকা গুছানো চুল, মনের মতো একটা অ্যাক্সেসরিজ আর হাসিমুখ—এগুলোই ঈদের সাজকে করে তোলে পরিপূর্ণ। সময় কম হলেও নিজের মধ্যে যত্নের ছাপ থাকলেই ঈদের দিনটা হয়ে ওঠে বিশেষ।
স্মার্টভাবে বেছে নেওয়া ছোট জিনিসগুলো যেমন ব্যাগ, গয়না বা একটি সুন্দর স্কার্ফ—এই ছোট ছোট টাচই সাজে এনে দেয় পরিপূর্ণতা। তাই সময় কম হলেও, নিজের মতো করে গুছিয়ে নেওয়াটাই ঈদের সেরা সাজ।
মনে রাখুন, ঈদের আনন্দ পোশাক বা সাজের চেয়েও বেশি—তা আসে নিজের মধ্যে আত্মবিশ্বাস আর ভালো লাগা থেকে। তাই সময় যত কমই থাকুক, নিজের মতো করে গুছিয়ে উঠুন, হাসিমুখে উদ্যাপন করুন ঈদের প্রতিটা মুহূর্ত। ঈদ হোক রঙিন, প্রাণবন্ত আর আনন্দে ভরপুর!
- ফাতেমাতুজ্জোহরা আফিয়া